ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে তরুণ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বাধা এবং আটকের ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে নেপাল ও বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতেও পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী সন্তোষ কুমার। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে।
নয়াদিল্লির কনট প্লেস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন সন্তোষ। রাস্তায় তরুণদের ওপর পুলিশের বাধা এবং নির্বিচারে আটকের ঘটনা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানান। তাঁর ভাষায়, মোদি সরকারের আচরণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বড় ধরনের গণআন্দোলন হয়েছে। এসব আন্দোলনের চাপে দুই দেশের তৎকালীন সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সন্তোষ ভারতীয়দেরও নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সন্তোষের মতে, কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। পুলিশ যদি রাস্তা থেকে ১০ জনকে ধরে নিয়ে যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে আরও ৫০ জন যোগ দেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর দৃষ্টিতে, এই প্রতিক্রিয়া সরকারের আচরণ নিয়ে মানুষের অসন্তোষেরই প্রকাশ।
ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মত জানাতে গিয়ে সন্তোষ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের অবসান হওয়া উচিত। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান সরকার টিকে থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সন্তোষ বলেন, এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার। প্রতিবেশী দুই দেশের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ওই দুই দেশে গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সরকারগুলোর পতন ঘটে। দিল্লির বিক্ষুব্ধ নাগরিকদের একাংশও এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা



