tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদখেলাবিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখির সম্ভাবনা

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখির সম্ভাবনা

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের লড়াই ঘিরে সবসময়ই থাকে বাড়তি উত্তেজনা। আর সেই ম্যাচ যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে আগ্রহ পৌঁছে যায় অন্য মাত্রায়। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তির সামনে।

সবশেষ বিশ্বকাপের মূল পর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৯০ সালে। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে আর দেখা হয়নি দুই দলের।

চলমান বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। টুর্নামেন্টের বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, নিজেদের পথচলা অব্যাহত রাখতে পারলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ‘জে’ গ্রুপে টানা দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপসেরা হয়েছে লিওনেল মেসির দল। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জর্ডান। কাগজে-কলমে সেই ম্যাচেও এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোতে তারা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের, যেখানে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে উরুগুয়ের।

অন্যদিকে ব্রাজিল শুরুতে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারলেও হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। শেষ ম্যাচে পরাজয় এড়াতে পারলেই গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট পর্বে উঠবে সেলেসাওরা। সেক্ষেত্রে শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জাপান।

বর্তমান ড্র অনুসারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ভিন্ন পথে অবস্থান করছে। ফলে দুই দলই যদি শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল এবং পরবর্তী বাধাগুলো সফলভাবে অতিক্রম করতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে হতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত এক মহারণ।

বিশ্বকাপে দুই দলের শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখনও উজ্জ্বল। ১৯৯০ সালের ২৪ জুন ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় এনে দিয়েছিলেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ একক প্রচেষ্টার পর তাঁর বাড়ানো বল থেকে গোল করেন ক্যানিজিয়া। সেই একমাত্র গোলেই ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেটিই এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একমাত্র মোকাবিলা। তাই এবার যদি সেমিফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়, তাহলে ১৯৯০ সালের সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইবে ব্রাজিল। অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা চাইবে আরেকটি ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেমিফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ ফুটবল বিশ্বের জন্য হতে পারে এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখতে এখন অপেক্ষায় কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।