tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়রেশম, তাঁত ও পাটপণ্যের সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

রেশম, তাঁত ও পাটপণ্যের সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

দেশে উৎপাদিত পাটকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে রেশম, তাঁত ও বহুমুখী পাটপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নেও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ এবং নতুন বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রেশম, তাঁত ও পাটপণ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত। এসব খাতের বিকাশে সহায়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেডিপিসিতে স্থায়ী শোরুম চালু করা হচ্ছে। মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়বে।

তিনি বলেন, হাতে তৈরি পণ্যগুলো মূলত ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়ে বাজারে আসছে। সরকার আগামী দিনে এসব খাতকে আরও বিকশিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই নিয়মিত মেলা, প্রদর্শনী এবং বাজার সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পাটপণ্যের বৈচিত্র্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জেডিপিসি ও এ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। কাঁচা পাট রপ্তানিতে মূল্য সংযোজনের সুযোগ সীমিত হলেও পাটকে পর্যায়ক্রমে স্লাইভার, প্যাকেজিং, ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে রপ্তানি আয় কয়েক গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

পাটমন্ত্রী জানান, গত বছর বাজারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি টন কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা, যা প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলারের সমান। একই পরিমাণ পাট দিয়ে প্যাকেজিং পণ্য তৈরি করা হলে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। অন্যদিকে, পাটের সঙ্গে কটন বা অন্যান্য ফাইবার মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করা গেলে প্রতি টনে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোন খাতে কী ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা সম্ভব এবং এসব পণ্যে কী পরিমাণ পাট ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, মেলার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পলিথিনের ব্যবহার থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের জিআই পণ্য, বহুমুখী পাটপণ্য, রাজশাহী সিল্ক ও তাঁতসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন পণ্যকে জনগণের কাছে আরও পরিচিত করে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সোনালি আঁশ পাট একসময় দেশের গর্ব ও মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পাটের উৎপাদন বাড়ানো, বহুমুখী পাটপণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং দেশ-বিদেশে এসব পণ্যের বাজার সৃষ্টি করার পাশাপাশি পাটকে আরও বেশি মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জেডিপিসি এক্সপ্রেস স্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের পাশাপাশি তাঁত ও রেশমের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র জেডিপিসি এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্যদিকে, ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ চলবে ৩ থেকে ৮ অক্টোবর, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।