tanaka

ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ভুয়া পরিচয়পত্র, ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসেই সহকারী পাইলটের মোবাইলে যা পাওয়া গেল, প্রকাশ হলো পরিচয়

সেই সহকারী পাইলটের মোবাইলে যা পাওয়া গেল, প্রকাশ হলো পরিচয়

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী একটি বিমানে মাঝআকাশে হামলা চালিয়ে সেটি বিধ্বস্তের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠা ওমানি সহকারী পাইলটের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের সন্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার সন্দেহে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারের পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরও কীভাবে তিনি অন্য দুটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে কাজের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হামামের লিংকডইন প্রোফাইল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বাদ পড়ার পর একই বছরের জুনে রয়্যাল এয়ার মারোক-এ যোগ দেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও তিনি চলে যান। এরপর প্রায় আট মাস আগে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে জানা গেছে। তবে তার লিংকডইন প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট

ককপিটে ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর হামামের মুছে ফেলা লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্ট দুটি তিনি নিজে প্রকাশ করেছিলেন, নাকি আগে থেকেই নির্ধারিত কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশ পেয়েছিল—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ককপিট থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও ছিল। ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবরের একটি ফ্লাইটের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আল ও আরকিয়ার কয়েকটি বিমানকে জুম করে দেখাতে দেখা যায় তাকে।

ভিডিওটির শেষাংশে আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে আফগানিস্তানের খোস্তে সিআইএ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো আল-কায়েদা সদস্য হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবির ছবি ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ছবিতে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানকে আলোর রেখার মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছিল। এর সঙ্গে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মর্যাদার লড়াইয়ের আহ্বানসংবলিত একটি কাসিদা ও কবিতা বাজছিল বলে জানা গেছে।

পুরোনো পোস্টে উগ্র ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ

সিএনএনের এআই-চালিত অনুসন্ধান পদ্ধতিতে হামামের প্রায় তিন হাজার মুছে ফেলা পুরোনো বার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সেখানে তার উগ্র মতাদর্শ ও নারীদের বিষয়ে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্ন উদাহরণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার মা তার জন্য কনে খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। কারণ, তার শর্ত ছিল—ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে নিকাব পরতে হবে এবং বিয়ের পর চাকরি করা যাবে না। পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, প্রথমে কয়েকজন নারী এমন শর্তে রাজি না হলেও তার মা যখন বলতেন, ‘আমার ছেলে পাইলট’, তখন তারা রাজি হয়ে যেতেন।

এ ছাড়া নারী-পুরুষের একসঙ্গে কর্মপরিবেশকে নারীদের জন্য ক্ষতিকর এবং ‘চরিত্রহীনতা’ তৈরির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একাধিক পোস্ট করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত ইসরায়েলগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ককপিটে ওমানের একজন নাগরিক কীভাবে সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলের শিন বেত, মোসাদ, সামরিক বাহিনী ও পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামামের সঙ্গে কোনো উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগাযোগ বা পূর্বপরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এদিকে, বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নিবন্ধিত হওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

জরুরি অবতরণের পর সৌদি আরবে আটক ওই সহকারী পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মতিক্রমে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।