একটি বিমানবন্দরের ল্যাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনাই যদি ঠিকভাবে করা না যায়, তাহলে সেই সরকার পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করবে কীভাবে?’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, একটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। তার দাবি, ২০২৬ সালের স্কাইট্র্যাক্স (Skytrax) র্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০ বিমানবন্দরের তালিকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থান পায়নি। একইভাবে বিশ্বের সেরা ১০০ বিমানবন্দরের তালিকাতেও এটি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি তাদের পক্ষে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন ডাকসু ভিপি।
তার ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বিমানবন্দরে তাদের সঙ্গে আচরণ ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় যেসব অনিয়ম ও ব্যর্থতার কারণে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, সেসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিবাদকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বিলম্ব হলেও আখতারুজ্জামানকে মামলা হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধাকে হ্যান্ডকাফ ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির এবং পরে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, বিএনপি সরকার শুরু থেকেই প্রবাসীদের বিষয়ে বিরূপ আচরণ করছে। নির্বাচনের আগে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে দলের অবস্থান এবং প্রবাসীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, এখন বিমানবন্দরে তাদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলার কারণেও একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিককে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
যেভাবে গ্রেফতার হন আখতারুজ্জামান
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাদিক কায়েম তার বিবৃতিতে বিমানবন্দরের সেবার মান, ল্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।



