পাকিস্তান-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম। শুক্রবার (২ অক্টোবর) কাসুর সীমান্তের লাধার গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
পাকিস্তানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাধার গ্রামের তিন বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি সীমান্ত পিলারের কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই এই গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় আজমত রসুল ও মহসিন জাট নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। তাদের সঙ্গে থাকা অপর একজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত দুজনই লাধারের জাট্টান ওয়ালি হাভেলি এলাকার বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র আরও দাবি করেছে, ওই তিন ব্যক্তি নিরস্ত্র ছিলেন এবং সীমান্তের বেড়া অতিক্রমের চেষ্টা করেননি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিদ্যমান ব্যবস্থা ও প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে গুলি চালানো হয়েছে বলেও সূত্রটি অভিযোগ করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে সংঘাতের পূর্ব ইতিহাস
পাকিস্তান ও ভারতের সীমান্তে অতীতেও গোলাগুলির ঘটনায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখা এলাকায় বেসামরিক হতাহতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি পুনর্ব্যক্ত করার পর সীমান্ত পরিস্থিতিতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা যায়। তবে পরবর্তী বছরগুলোতেও বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।



