tanaka
প্রচ্ছদখেলাএকসময় রোনালদো, এখন মেসিই সেরা—মুলারের মত বদলের গল্প

একসময় রোনালদো, এখন মেসিই সেরা—মুলারের মত বদলের গল্প

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় কে—লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? দুই মহাতারকার এই দ্বৈরথ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এবার সেই আলোচনায় নিজের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করলেন জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার থমাস মুলার। তার মতে, সবকিছু বিবেচনায় লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে মেসি-রোনালদো প্রসঙ্গে কথা বলেন মুলার। তিনি বলেন, ‘মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো—এই প্রশ্ন আমাকে অসংখ্যবার করা হয়েছে, প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি।’

তবে মুলারের পছন্দ সবসময় মেসি ছিলেন না। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে বরং রোনালদোর পক্ষেই ছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সেই পছন্দে পরিবর্তন এসেছে বলে জানান জার্মান তারকা।

মুলারের ভাষায়, ‘আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছর আমি ক্রিশ্চিয়ানোর পক্ষেই ছিলাম। কিন্তু পুরো বিষয়টি বিবেচনা করলে মনে হয় লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি যা করেছেন, এরপরও যেভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন, তা তাকে একজন প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

শুধু ট্রফি-পরিসংখ্যান নয়, ফুটবলের আনন্দও

মেসির শ্রেষ্ঠত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুধু ট্রফি কিংবা পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করেননি মুলার। তার কাছে মেসির খেলার সৌন্দর্য ও দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে দর্শকদের মুগ্ধ করে যাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘তারকা হয়ে ওঠার অনেক আগে থেকেই তাকে দেখে ফুটবল উপভোগ করা যেত। এটি কোনো সাময়িক চমক নয়, প্রায় দুই দশক ধরে একইভাবে মানুষকে মুগ্ধ করে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি খেলার যে আনন্দ সে দেয়, সেটাই তাকে আলাদা করে। তাই আমার কাছে লিওনেল মেসিই সেরা।’

মেসিকে সেরা বলার ক্ষেত্রে এটিই মুলারের প্রথম মন্তব্য নয়। এর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে রোনালদোর প্রতি বেশি ঝোঁক থাকলেও পরবর্তীতে মেসির খেলার সৌন্দর্য ও ধারাবাহিকতায় মুগ্ধ হয়ে নিজের মত পরিবর্তন করেছেন।

মেসির বিপক্ষে মুলারের রেকর্ড

মজার বিষয় হলো, ক্লাব ফুটবলে মেসির বিপক্ষে মুলারের ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড বেশ ভালো। বার্সেলোনার বিপক্ষে ১০ ম্যাচে মুলার করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২টি। এসব ম্যাচের মধ্যে মুলারের দল জয় পেয়েছে ৭টিতে, আর মেসির দল জিতেছে ৩টিতে।

পিএসজির জার্সিতে মেসির সঙ্গে আরও দুইবার মুখোমুখি হন মুলার। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে দুই লেগেই মেসির পিএসজিকে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও মেসির বিপক্ষে সাফল্যের স্মৃতি রয়েছে মুলারের। ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি ৪-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। চার বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে জার্মানি।

রোনালদোর বিপক্ষে চিত্রটা উল্টো

রোনালদোর বিপক্ষে অবশ্য মুলারের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুজন মোট আটবার মুখোমুখি হয়েছেন।

এসব ম্যাচে মুলার কোনো গোল করতে না পারলেও রোনালদো করেছেন ৯ গোল। একই সময়ে বায়ার্ন ও রিয়ালের চারটি নকআউট দ্বৈরথের মধ্যে তিনটিতেই জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ।

২০১৪ ও ২০১৭ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৮ সালের সেমিফাইনালে বায়ার্নকে বিদায় করে দেয় রিয়াল। বাভারিয়ানদের একমাত্র সাফল্য আসে ২০১২ সালে, টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে।

মেসি-রোনালদো বিতর্কে মুলারের ব্যক্তিগত পছন্দ বদলে গেলেও, দুই তারকার বিপক্ষে মাঠের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারে তৈরি করেছে ভিন্ন দুই অধ্যায়। আর সেই অভিজ্ঞতার পর এখন মেসিকেই সর্বকালের সেরা হিসেবে দেখছেন জার্মান কিংবদন্তি।