প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যেমন নিজেদের পরিচিতি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তেমনি বিশ্বকাপ থেকে অর্জন করেছে বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানিও। এই অর্থ দেশটির ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই রূপকথার মতো এক যাত্রা উপহার দেয়। শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় লড়াইয়ে বিদায় নিলেও তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখায় কেপ ভার্দে। এরপর বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা উরুগুয়ের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে তারা। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করে নকআউট পর্ব।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও মাঠে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে কেপ ভার্দে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফেরে দলটি। ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ১১১তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলের দুর্ভাগ্যে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।
তবে মাঠের লড়াই শেষ হলেও সাফল্যের হিসাব এখানেই থেমে থাকছে না। চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে ফিফা মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি বিতরণ করছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য দেওয়া হবে আরও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া কেপ ভার্দের মতো ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য রয়েছে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা। যাতায়াত, টিকিট ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যয়ের জন্য তারা ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পাবে। অন্যদিকে, নকআউট পর্বে ওঠার পুরস্কার হিসেবে শেষ ৩২-এ বিদায় নেওয়া দলগুলো অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।
সব মিলিয়ে কেপ ভার্দের প্রাইজমানির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি।
এই অর্থ সরাসরি কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের হাতে যাবে। ভবিষ্যতে ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন, কোচিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশটির ফুটবলের সামগ্রিক বিকাশে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করবে ফেডারেশন।



