লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা ও মেশিনগানের গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে এবং শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শুক্রবার সর্বশেষ হতাহতের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে মোট হতাহতের হিসাবও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ হাজার ৯১৫ জন নিহত এবং ৩০ হাজার ৫৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মানসুরি, বেইত আল-সায়্যেদ এলাকার আশপাশ এবং মাজদাল জউনের উপকণ্ঠে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে শুক্রবার রাতেও মানসুরি, মাজদাল জউন ও বেইত আল-সায়্যেদে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।
হামলায় বেইত আল-সায়্যেদ শহরের বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরটির প্রায় কোনো বাড়িই অক্ষত নেই। এ ছাড়া হাদাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আশপাশের উপত্যকাগুলো লক্ষ্য করে মেশিনগান দিয়েও গুলি চালানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ইতালি সফরের দ্বিতীয় দিনে রোমে মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল থেকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সাত দফা আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ দফা অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটনে এবং সর্বশেষ দুই দফা রোমে। গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউনিফিল)-এর বর্তমান ম্যান্ডেট চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালে বাহিনীটি পুরোপুরি প্রত্যাহার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সাল থেকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন রয়েছে ইউনিফিল। বর্তমানে দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে।



