ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহর একটি শপিং মলে রাশিয়ার জোড়া ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৩০ জন। আহতদের মধ্যে ২৩ জন শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়ায়। তিনি জানান, এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, শহরের সবচেয়ে বড় ওই শপিং মলে দুই দফায় হামলা চালানো হয়। দিনের বেলায় তার নিজ শহরে চালানো এ হামলাকে তিনি ‘একেবারে নিন্দনীয় ও জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার পর জরুরি সেবাকর্মীরা যখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিলেন, তখন দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকর্মীদেরও লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিবিসির যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আগেই আগুনে জ্বলতে থাকা শপিং মলে দ্বিতীয় একটি ড্রোন আঘাত করছে।
এ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। হানঝা জানান, আহত ১৩০ জনের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা গুরুতর। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ইউক্রেনের আরও চারটি অঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ক্রিভি রিহতে পাঠানো হচ্ছে।
ক্রিভি রিহর মেয়র ওলেক্সান্দর ভিলকুল বলেন, হামলার সময় রুশ ড্রোনগুলো ‘অত্যন্ত নিচু দিয়ে’ উড়ছিল। তিনি হামলাকারীদের তীব্র নিন্দা করে তাদের ‘পশু’ বলে মন্তব্য করেন। মেয়র জানান, কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
ক্রিভি রিহর পাশাপাশি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি এলাকাতেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে পৃথক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় একটি ট্যাক্সির কাছে ড্রোন বিস্ফোরিত হলে তিনজন আহত হন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান।
এর এক দিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রাতভর চালানো ওই হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা রাশিয়ার ভেতরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগার ও একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে।
কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বৈধ সামরিক লক্ষ্য, কারণ এসব স্থাপনা দেশটির যুদ্ধ পরিচালনা ও অর্থায়নে সহায়তা করে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।



