tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদঅন্যান্যবিদেশি মাকড়সা-সাপ কেন আসছে বাংলাদেশে, কী ঝুঁকি তৈরি করছে?

বিদেশি মাকড়সা-সাপ কেন আসছে বাংলাদেশে, কী ঝুঁকি তৈরি করছে?

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেকসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা ছাড়াও কর্ন স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গেকো, সাইড-নেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বিষাক্ত, ঝুঁকিপূর্ণ বা দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—এমন বন্যপ্রাণী বাংলাদেশে আমদানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই কীভাবে এসব প্রাণী দেশে প্রবেশ করছে এবং বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৌখিনভাবে বিদেশি প্রাণী পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি, অনলাইন বেচাকেনা এবং পাচারচক্রের সক্রিয়তার কারণে এসব প্রাণীর অবৈধ আমদানি বেড়েছে। এর ফলে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি নতুন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, বর্তমানে অনেকেই শখের বসে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক এমনকি আফ্রিকার বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙও পালন করছেন।

তার ভাষ্য, বৈধভাবে আমদানি করা যায়—এমন প্রাণীর চালানের আড়ালে অনেক সময় অবৈধ প্রাণীও দেশে ঢুকিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে স্বর্ণ বা অন্যান্য পণ্যের মতো কঠোর নজরদারি থাকলেও পোষা প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে বন বিভাগ বলছে, বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বন্যপ্রাণী আমদানি, বিক্রি ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। সম্প্রতি মিরপুরে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে আট প্রজাতির ৪২টি দেশীয় বন্যপ্রাণীও উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন আনা হচ্ছে বিদেশি প্রাণী?

মিরপুরের রূপনগরের একটি আবাসিক ভবনের ছাদে অ্যাকুরিয়াম তৈরি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে হাজার হাজার বিদেশি প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অভিযানে ১ হাজার ১০৪টি প্রাণী উদ্ধার হলেও সেখানে প্রায় ছয় হাজার প্রাণী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণী অভিযানের আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রাণী উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—এসব প্রাণীর এত বড় বাজার তৈরি হলো কীভাবে?

আদনান আজাদের মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, দেশে শৌখিনভাবে বিদেশি প্রাণী পালনের চাহিদা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রাণী প্রতিবেশী দেশে পাচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাণীগুলো বাংলাদেশে এনে পরে চোরাইপথে স্থলসীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও বিদেশি প্রাণীর বেচাকেনার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশি প্রাণী কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুর, বিড়াল বা খরগোশের মতো গৃহপালিত প্রাণী নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও আইনি শর্ত মেনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নেওয়া গেলেও বন্যপ্রাণী বা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

একটি দেশ থেকে অন্য দেশে প্রাণী নেওয়ার আগে কোয়ারেন্টাইন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অবৈধভাবে আনা প্রাণীর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না।

ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি কোনো প্রাণী স্থানীয় পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা নতুন কোনো রোগ ছড়াবে কি না—তা পরীক্ষা না করেই দেশে প্রবেশ করলে বড় ধরনের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আদনান আজাদের মতে, বিমানবন্দরে ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের স্থায়ী অফিস থাকলে অবৈধ প্রাণী আমদানি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। কারণ, কোন প্রাণী বৈধ আর কোনটি নিষিদ্ধ—তা সব সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের পক্ষে শনাক্ত করা সহজ হয় না।

তবে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক দাবি করেন, বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আনা প্রাণীর চালান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়াম মাছ, অ্যাকুরিয়াম সরঞ্জাম কিংবা অর্কিডের চালানের ভেতরে লুকিয়ে অবৈধ প্রাণী আনার চেষ্টা করা হয় এবং সেসব চালান জব্দও করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী আমদানি, রপ্তানি, পাচার, বিক্রি বা সংরক্ষণের দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে।