ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনকে দায়িত্ব দেওয়ায় গভীর অসন্তোষ, উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনের শপথ গ্রহণের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন একজনের হাতে দেওয়া হয়েছে, যার ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য ও উদ্বেগ রয়েছে। এ নিয়োগে তারা গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ও উদ্বিগ্ন।
আল্লামা আব্দুল হামিদ বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আলেম-উলামা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের আকিদা-বিশ্বাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি না। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় অবস্থান ও দেশের বৃহত্তর ধর্মীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’
তার ভাষ্য, শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সরকারকে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। ধর্মীয় বিষয়ে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞ আলেম-উলামা ও ধর্মীয় নেতৃত্বের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি এ নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। সংগঠনের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল স উ আব্দুস সামাদ এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, শামীম কায়সার লিংকনের ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, সরকার এমন একজন ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশের বৃহৎ সুন্নি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া সিদ্ধান্ত সরকারকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাবি মেনে নেওয়া না হলে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।



