tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকব্রিকসে যোগ দিতে আবেদন করেও আটকে আছে পাকিস্তান, বড় বাধা ভারত

ব্রিকসে যোগ দিতে আবেদন করেও আটকে আছে পাকিস্তান, বড় বাধা ভারত

ব্রিকসের সদস্য হতে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জোটটিতে জায়গা হয়নি দেশটির। ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগদানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ‘ব্রিকস প্লাস’-এ রূপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পরও পাকিস্তানের সদস্যপদের আবেদন ঝুলে রয়েছে।

ব্রিকসে যোগদানের জন্য আবেদন করা ২৯টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস বাড়ানোর প্রয়োজন থেকেই ইসলামাবাদ জোটটিতে যোগ দিতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারত্ব কিনেছে পাকিস্তান। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থায়নের সুযোগ বহুমুখী করার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদ এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বাড়ছে

পাকিস্তানের আবেদন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে ব্রিকসের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আর ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি ভিত্তিতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ জোটটির সদস্য দেশগুলোর হাতে।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ বৈশ্বিক দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ জোটে যোগ দিতে আগ্রহী। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের ‘অধিকাংশ’ সদস্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

ব্রিকসে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রাখতে চায় পাকিস্তান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ তখন ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার আবেদন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ব্রিকসে যোগদানের মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে এগিয়ে যাবে বলেও আমরা আশা করি।’

এদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চীন-রাশিয়ার সমর্থন, কিন্তু ভারতের আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগদানের প্রচেষ্টায় চীন ও রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে। তবে ভারতের বিরোধিতার কারণে আবেদনটি এখনো এগোয়নি।

ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনো নতুন পূর্ণ সদস্য বা অংশীদার দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে বিদ্যমান সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে ভারতের আপত্তি পাকিস্তানের সদস্যপদের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানও ইসলামাবাদের ব্রিকসে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকলেও নয়াদিল্লির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সদস্যপদের বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি