বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি এবং সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম।
সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাদিক কায়েম জানান, ছাত্রশিবিরে বছরে দুই দফায় সাংগঠনিক পুনর্গঠন (সেটআপ) হয়। ২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করে। এর পর ছাত্রশিবির জানায়, সংগঠনের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বিবৃতিতে বলেন, সংগঠনের যে কোনো পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
সাদিক কায়েম বলেন, ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর একজন সাবেক সদস্য বা নেতা নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম ‘সালমান’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। সে সময় তিনি আন্দোলনের সংগঠকদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা, বিচ্ছিন্ন নেতাদের মধ্যে সমন্বয়, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনসংক্রান্ত তথ্য ও সংবাদ গণমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্স এরিয়াওয়্যার (সেইভ)-এর পরামর্শক, বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের সভাপতি এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘হিল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
সাদিক কায়েম আরও জানান, ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।



