tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিগণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না: রিজভী

গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না: রিজভী

গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না এবং জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করাও সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের নীতি প্রচার ও সুসংহত করার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালন করা হয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। একই সঙ্গে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও একদলীয় দুঃশাসনের প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে কর্তৃত্ববাদী শাসন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, বিভিন্ন আইন ও বিধিনিষেধের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে এবং ভিন্নমতের কারণে অনেকে গুম, হত্যাকাণ্ড ও আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একইভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। এজন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান

রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে নারী-পুরুষসহ সব মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র কোনো ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেয় না; বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দুঃসময় পেরিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এখন একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।