tanaka

ব্যবহারকারীর লেখার ধরন অনুসরণ করে লিখবে চ্যাটজিপিটি, পড়তে পারবে ই-মেইল ও বার্তাও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে লেখালেখি এখন দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এআইয়ের তৈরি লেখায় অনেক সময় এমন শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ও লেখার ভঙ্গি দেখা...
প্রচ্ছদসারাদেশ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলো ২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ

৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলো ২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে জেলে সোহরাফ গাজী মাছটি বিক্রির জন্য কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। পরে নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনে নেন কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীর সমুদ্র এলাকায় মাছটি জেলের জালে ধরা পড়ে।

জেলে সোহরাফ গাজী বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি ধরা পড়ে। নিলামে মাছটি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে, যা প্রতি কেজিতে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। প্রায় সাত বছর পর এবার এমন বড় একটি ইলিশ পেয়েছেন তিনি।

মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান বলেন, বাজারে এখন এত বড় ইলিশ খুব কমই দেখা যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কেনা হয়েছে। মাছটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাসায় পাঠানো হবে। তাঁর মতে, এ ধরনের বড় মাছ ধরা পড়লে জেলে ও আড়তদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আর্থিকভাবে লাভবান হন।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি বলেন, প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার হলেও ঘরে ইলিশ কেনা সম্ভব হতো। এখন সেটি অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অনিয়ন্ত্রিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং কার্যকর সহ-ব্যবস্থাপনার অভাবে বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা কমছে। এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন এবং খাদ্য সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বড় আকৃতির ইলিশ ধরা পড়া অত্যন্ত ভালো খবর। এটি ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সুফলও হতে পারে। বড় ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা হৃদ্‌যন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আকৃতির ইলিশ আরও বেশি ধরা পড়তে পারে।