ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি উঠে এসেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)–এর মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম, ওয়ালা ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে সৌদি আরব ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চেয়েছেন।
সেন্টকমের মধ্যস্থতায় আলোচনা
দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়, হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম মধ্যস্থতা করেছে বলে ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। এর আগে ওয়ালা একই ধরনের তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বৈঠকের পর সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগ শুরু হয়।
সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলার দাবি
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির তেল পরিবহন অবকাঠামো, পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এ ছাড়া ইয়েমেন-সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি একটি মসজিদ ও আশপাশের ভবনে থাকা বেসামরিক লোকজনও হামলার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব ঘিরে উদ্বেগ
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
হুথিদের সামরিক তৎপরতা নিয়ে সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও উদ্বিগ্ন বলে নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা সহায়তার বিষয়টি আলোচনায়
প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আলোচনায় প্রধানত গোয়েন্দা সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে হুথিদের সামরিক অবস্থান, অস্ত্র ও সেনা মোতায়েন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
ইসরায়েল এর আগে ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে হুথিবিরোধী সহযোগিতার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। ফলে আলোচনার পরিধি ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স



