tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী।

তিনি জানান, অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচ প্রকল্প

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো—

  • ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট;
  • রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ;
  • চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়);
  • ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): নর্দান রুট (১ম সংশোধিত);
  • ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) (১ম সংশোধিত)।

রেলপথ, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য প্রকল্প

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্রাকশন চালুকরণ এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধিত)।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

পাশাপাশি খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) এবং মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।

৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫ প্রকল্প

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় পরিকল্পনামন্ত্রী নিজস্ব ক্ষমতাবলে সেগুলো অনুমোদন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত এসব প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (২য় সংশোধিত), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ (১ম সংশোধিত), ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট প্রতিষ্ঠা ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রভাবিত এলাকায় পুনর্বনায়ন (১ম সংশোধিত), দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত)।

এ ছাড়া রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ও অন্যান্য সেতু প্রতিস্থাপন (১ম সংশোধিত), আরডিএ ভবনের ৫ম থেকে ১০ম তলা নির্মাণ, জালালাবাদ সেনানিবাসে এসআইঅ্যান্ডটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোয়ার্টার গার্ড নির্মাণ এবং সিলেট বিভাগে বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ৩ডি মডেল প্রস্তুতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বিষয়েও একনেককে অবহিত করা হয়।

আরও রয়েছে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও খুলনা মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ (এসএসপিআরআইটি) (১ম সংশোধিত), বরগুনা ও দিনাজপুর জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং সিলেট-১০ নম্বর অনুসন্ধান কূপ খনন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।