জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ মন্তব্য করে আলোচনায় আসা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।
একই সঙ্গে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকেও একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
যে কারণে বরখাস্ত ইকবাল
মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ করে কথিত একটি মন্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, একটা গুলি করলে একটাই মরে।’
তবে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে তার ওই বক্তব্যকে শাস্তির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার এবং পরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আলোচিত মন্তব্যের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নেওয়া বিভাগীয় শাস্তির ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে মূলত অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।



