স্বামী স্ত্রীকে বললেন, ‘তুমি আমার ঘর থেকে বাইরে বের হলে তালাক।’ পরে তৃতীয় একজন ব্যক্তি স্ত্রীকে ওই ঘর থেকে বের করে দিলেন। তবে স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় বের হননি। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর উচ্চারণ করা শর্তের কারণে তালাক কার্যকর হবে কি না—এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুহাম্মদপুরের সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম।
তার ব্যাখ্যায়, এ ধরনের ঘটনায় ‘অন্য ব্যক্তি স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন’—এই বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্ত্রী কীভাবে ঘরের বাইরে গেলেন, তার ওপর শরিয়তের বিধান নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, যদি ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে কোলে তুলে, টেনে-হিঁচড়ে কিংবা ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে নিয়ে যান এবং স্ত্রী নিজে বাইরে যাওয়ার কোনো উদ্যোগই না নেন, তাহলে স্বামীর নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে বলে ধরা হবে না। ফলে এ অবস্থায় তালাকও সংঘটিত হবে না।
তবে পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন, চাপ সৃষ্টি করেছেন, জোরাজুরি করেছেন বা সামান্য টানাহেঁচড়া করেছেন এবং এর ফলে স্ত্রী বাধ্য হয়ে নিজেই হেঁটে ঘরের বাইরে চলে গেছেন, তাহলে বাহ্যিকভাবে শর্তটি পূরণ হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে এক তালাকে রজঈ পতিত হবে বলে জানান তিনি।
রজঈ তালাকের পর রুজুর সুযোগ
এক তালাকে রজঈ কার্যকর হলে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। এ জন্য নতুন করে বিয়ে বা মোহর নির্ধারণের প্রয়োজন হবে না। তবে এভাবে একটি তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্বামীর হাতে ভবিষ্যতের জন্য আরও দুই তালাকের সুযোগ থাকবে।
ইদ্দতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বামী রুজু না করলে রজঈ তালাক বায়েন তালাকে পরিণত হবে। এরপর দুজন আবার সংসার করতে চাইলে নতুন করে মোহর নির্ধারণ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে নারীর বিবাহ করার প্রয়োজন নেই।
রজঈ তালাক ও ইদ্দতের অর্থ
রজঈ তালাক হলো এমন এক ধরনের প্রত্যাবর্তনযোগ্য বিবাহবিচ্ছেদ, যেখানে তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত চলাকালে স্বামী নতুন আকদ বা নতুন মোহর ছাড়াই স্ত্রীকে দাম্পত্য জীবনে ফিরিয়ে নিতে পারেন।
আর ইদ্দত বলতে বোঝায়, স্বামীর মৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদের পর একজন নারীকে শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিধান। ইদ্দত চলাকালে তিনি অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করতে পারেন না।
তালাকের মতো বিষয়ে উচ্চারিত শব্দ, স্বামীর উদ্দেশ্য, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং এর আগে কোনো তালাক হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই বাস্তব কোনো ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট যোগ্য মুফতির কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে পরামর্শ নেওয়া উচিত।



