tanaka
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবন‘ঘর থেকে বের হলে তালাক’—অন্যের জোরে বের হলে কি তালাক হবে?

‘ঘর থেকে বের হলে তালাক’—অন্যের জোরে বের হলে কি তালাক হবে?

রাগের বশে স্বামী স্ত্রীকে বললেন, ‘তুমি আমার ঘর থেকে বাইরে বের হলে তালাক।’ পরে অন্য একজন ব্যক্তি স্ত্রীকে জোর করে ওই ঘর থেকে বের করে দিলেন। এ অবস্থায় স্ত্রী নিজে থেকে বের হননি; বরং অন্য ব্যক্তির কারণে তাকে ঘরের বাইরে যেতে হয়েছে। তাহলে স্বামীর দেওয়া শর্ত অনুযায়ী তালাক কার্যকর হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মুহাম্মদপুরের সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম।

তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনায় প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে, ‘অন্য ব্যক্তি স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে। কারণ পরিস্থিতির ধরন অনুযায়ী শরিয়তের বিধান ভিন্ন হতে পারে।

তাওহীদুল ইসলামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যান, টেনে-হিঁচড়ে বা ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে নিয়ে যান এবং স্ত্রী নিজে বের হওয়ার জন্য কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেন, তাহলে শর্তটি পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে না। ফলে এ পরিস্থিতিতে তালাকও কার্যকর হবে না।

অন্যদিকে, যদি ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে হুমকি দেন, চাপ সৃষ্টি করেন, জোরাজুরি করেন কিংবা সামান্য টানাহেঁচড়া করার কারণে স্ত্রী অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজে হেঁটে ঘরের বাইরে চলে যান, তাহলে বাহ্যিকভাবে স্বামীর দেওয়া শর্ত পূরণ হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। এ অবস্থায় এক তালাকে রজঈ পতিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রজঈ তালাক হলে কী করণীয়

এক তালাকে রজঈ হলে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে ফিরিয়ে নিতে বা রুজু করতে পারবেন। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে স্বামীর হাতে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।

ইদ্দতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি স্বামী রুজু না করেন, তাহলে রজঈ তালাক বায়েন তালাকে পরিণত হবে। এরপর স্বামী-স্ত্রী আবার সংসার করতে চাইলে নতুন করে মোহর নির্ধারণ করে পুনরায় বিবাহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ করার প্রয়োজন নেই।

রজঈ তালাক ও ইদ্দত কী

রজঈ তালাক বলতে এমন প্রত্যাবর্তনযোগ্য তালাককে বোঝায়, যেখানে তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের সময়সীমার মধ্যে স্বামী নতুন করে আকদ বা মোহর নির্ধারণ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, স্বামীর মৃত্যু কিংবা বিবাহবিচ্ছেদের পর একজন নারীকে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার যে বিধান রয়েছে, সেটিই ইদ্দত। এই সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না।

উল্লেখ্য, তালাকের মতো পারিবারিক ও ধর্মীয় বিষয়ে বাস্তব পরিস্থিতি, ব্যবহৃত শব্দ এবং পূর্বের তালাকের ইতিহাসের ওপর বিধান পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে যোগ্য আলেম বা মুফতির সরাসরি পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।