tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকশেষ হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে মোদি-শি একমত

শেষ হলো ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে মোদি-শি একমত

বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনার বার্তা দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বহুপক্ষীয় আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ ব্রিকসের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

এবারের সম্মেলনে টেকসই সক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব—এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহব্যবস্থার সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা ও বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা।

সম্মেলনে বক্তব্যে মোদি বলেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসকে আরও সমন্বিত, শক্তিশালী ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এসব নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ভারত-চীন ও ভারত-রাশিয়া বৈঠক। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শি জিনপিং।

বৈঠকে হিমালয় সীমান্ত ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মোদি। তিনি বলেন, দুই দেশের মতপার্থক্য কোনোভাবেই যেন বিরোধে রূপ না নেয়। সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই নেতা একমত হন।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। এসব সংকটের সমাধানে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনের শেষ দিনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায় ৪৫ পৃষ্ঠার ‘দিল্লি ঘোষণা’। ১৪০টি অনুচ্ছেদে তৈরি এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে একতরফা সামরিক সংঘাতের বিরুদ্ধেও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় ঘোষণায়। মোদি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার ও স্বার্থ প্রতিষ্ঠায় ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এ ছাড়া প্রযুক্তির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন মোদি। এ ধরনের বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলন শেষে ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন মোদি। সেখানে উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন।

২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন এবং পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাওয়া চীন ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নয়াদিল্লি সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদি।