চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপির বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার চাচাতো বোনজামাই মো. তারেক আহমেদ চৌধুরী। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডলের মাধ্যমে পপির খুলনা ও ঢাকার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশটি প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তারেক আহমেদ চৌধুরী।
তারেক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার স্ত্রীর আত্মীয় সাদিকা পারভিন পপি বহুবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি তার কোনো অভিযোগ থাকে, তিনি পারিবারিকভাবে আলোচনা করতে পারতেন বা আইনগত পথে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার নামে অসত্য ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাই আমি আইনিভাবে বিষয়গুলো তাকে জানিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, অতীতেও পপি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল জানান, তার মক্কেল ঢাকার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সাদিকা পারভিন পপির প্রয়াত চাচা মিয়া কবির হোসেনের জামাতা হলেন তারেক আহমেদ চৌধুরী। বৈবাহিক সূত্রে পপির সঙ্গে তারেকের আত্মীয়তা রয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একটি সম্পত্তি নিয়ে তাদের পরিবারে বিরোধ রয়েছে। সম্পত্তিটি পপির প্রয়াত চাচার মালিকানাধীন ছিল, যা একটি বৈধ হেবা দলিলের মাধ্যমে তারেক আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী এবং শাশুড়িকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। ফলে তারা উক্ত সম্পত্তির আইনগত মালিক হন। সেখানে তারেক আহমেদ চৌধুরীর কোনো উত্তরাধিকার, দখল বা মালিকানার প্রশ্ন নেই। হেবা দলিল ও উত্তরাধিকার আইনের আওতায়ই সম্পত্তিটির বণ্টন হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এ ধরনের কোনো আইনগত সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও গত ২১ নভেম্বর সময় টিভির একটি অনুষ্ঠানে পপি তারেক আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
ইলিয়াছ আলী আরও বলেন, গণমাধ্যমে পপি দাবি করেছেন যে তারেক আহমেদ চৌধুরী তাকে এলাকায় চলাফেরা করতে বাধা দিচ্ছেন এবং সম্পত্তিতে তার অংশ বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে এমনটি করছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পপির ধারাবাহিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তারেক আহমেদ চৌধুরীর পেশাগত অবস্থান এবং নৈতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নোটিশে পপিকে সতর্ক করে বলা হয়, তিনি যেন অবিলম্বে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং যেখানে অভিযোগ প্রচারিত হয়েছে—সেই একই টিভি চ্যানেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ক্ষমাপ্রার্থনায় স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য। পাশাপাশি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে তারেক আহমেদ চৌধুরীকে আর সম্পৃক্ত না করার অনুরোধ জানানো হয়, কারণ উক্ত বিষয়ে তার কোনো আইনগত অবস্থান নেই।
নোটিশে আরও বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে পপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মানহানি মামলা দায়ের এবং সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে।



