tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনঋতুপর্ণার কাজের প্রতি ভালোবাসা আজও আগের মতোই, বললেন রাইমা

ঋতুপর্ণার কাজের প্রতি ভালোবাসা আজও আগের মতোই, বললেন রাইমা

একই দিনে জন্মদিন দুই অভিনেত্রীর। একজন টালিউডের বর্ষীয়ান তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অন্যজন অভিনেত্রী রাইমা সেন। প্রতি বছর ৭ নভেম্বর তাঁদের জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে থাকে বাড়তি আগ্রহ। এবার ঋতুপর্ণার জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার কথা জানালেন রাইমা। তাঁর চোখে, এত বছর পেরিয়েও কাজের প্রতি ঋতুপর্ণার আগ্রহ ও নিষ্ঠা একটুও কমেনি।

ঋতুপর্ণাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাইমা বলেন, ‘চোখের বালি’ ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁদের প্রথম পরিচয়। প্রথম আলাপেই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়। সেদিন অনেকক্ষণ গল্প করেছিলেন তাঁরা। প্রথমবার দেখা হচ্ছে, এমন অনুভূতিই হয়নি তাঁর। এরপর ‘নিশিযাপন’ ও ‘অনুরণন’-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজন।

ঋতুপর্ণার সঙ্গে থাকলে নিজেকে বেশ স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ মনে হয় বলে জানান রাইমা। কাজের প্রতি তাঁর একাগ্রতাকে শেখার মতো গুণ হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, এত বছর পেরিয়েও ঋতু কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসেন। কাজের পরিমাণ কমানোর কোনো ইচ্ছাও তাঁর নেই।

সহকর্মী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও ঋতুপর্ণার নানা গুণের প্রশংসা করেন রাইমা। তাঁর মতে, ঋতু অত্যন্ত সৎ, অন্যের কথা ভাবেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ান। যেকোনো প্রয়োজনে ফোন করলেই তাঁকে পাওয়া যায়। বড় তারকা হওয়ার পরও তাঁর মধ্যে অহংকার বা আড়ম্বর নেই। বরং সবার সঙ্গে সাধারণভাবে মিশতে এবং সবাইকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন তিনি।

রাইমার ভাষায়, ঋতুপর্ণা প্রকৃত অর্থেই বড় মনের মানুষ। তাঁর মধ্যে খারাপ কোনো দিক চোখে পড়েনি বলেও জানান অভিনেত্রী। দুজনের বন্ধুত্বের জায়গাটিও বেশ গভীর। একসঙ্গে সময় কাটালে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা এমনকি পরনিন্দা-পরচর্চাও চলে বলে মজা করে জানিয়েছেন তিনি।

একই দিনে জন্মদিন হওয়ায় বিশেষ এই দিনটিতে দুজনের দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কখনো একে অন্যের বাড়িতে যান, আবার কখনো একসঙ্গে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। মুম্বাইয়ে রাইমার বাড়িতেও যান ঋতুপর্ণা, আবার রাইমাও তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যান।

একসঙ্গে কাজ করার পুরোনো স্মৃতির কথাও মনে করেছেন রাইমা। পরিচালক সন্দীপ রায়ের ‘নিশিযাপন’ ছবির আউটডোর শুটিং হয়েছিল কালিম্পঙে। সেই সময় শুটিংয়ের ফাঁকে দুজনে ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন এবং প্রচুর মোমো খেতেন। তাঁদের এই ঘোরাঘুরি নিয়ে একপর্যায়ে ইউনিটের সদস্যরা বিরক্ত হয়ে রাগও করেছিলেন। তবে সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ না হলেও ঋতুপর্ণার সঙ্গে বন্ধুত্বে কোনো ভাটা পড়েনি বলে জানান রাইমা। দেখা হলেই আগের মতোই জমে ওঠে তাঁদের আড্ডা। জন্মদিনে প্রিয় সহকর্মী ও বন্ধুর জন্য তাঁর প্রত্যাশা, ঋতুপর্ণা যেন সারা জীবন এমনই প্রাণবন্ত থাকেন, মানুষকে ভালোবাসেন এবং আরও সাফল্য অর্জন করেন। পাশাপাশি সুস্থ থেকে দুজনের একসঙ্গে আরও অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন রাইমা।