tanaka
প্রচ্ছদরাজধানীঢাকায় দুই ঘণ্টায় আট স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, স্কুলবাসে আগুন

ঢাকায় দুই ঘণ্টায় আট স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, স্কুলবাসে আগুন

রাজধানীতে আবারও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত আটটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ভাটারায় জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভাটারা থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা দেবাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। কারা এবং কীভাবে আগুন দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান, পল্লবী থানা প্রাঙ্গণ এবং মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের পাশে, উপাচার্য চত্বর, নীলক্ষেতসংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, টিএসসি, জগন্নাথ হলের সামনের এলাকা, ডাকসু ভবনের সামনে এবং শাহবাগে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এসব ঘটনার পর তিনজনকে আটক করেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাঁদের শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে পল্লবী থানা প্রাঙ্গণেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন।

এদিকে ধারাবাহিক এসব বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঘটানো হচ্ছে বলে মনে করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন।

তিনি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সদস্য রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে নাশকতা চালানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।