tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে জনগণের সেবা করার জন্য নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণ শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে। তাই সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাটা দোষের নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তবে জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি এখন জনগণের ইশতেহার ও জনগণের দলিল। তাই সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

রোববার সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অত্যন্ত জরুরি। এসব গুণাবলি শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখেছেন তারা। এখন সরকারি প্রশাসনে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়ে অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ও কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তবে সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাঁদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন। তবে জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মোহভাবে নাগরিক সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের প্রয়োজনে প্রত্যেক মানুষেরই কখনো না কখনো অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। নিজেরা অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও ঠিক তেমন আচরণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুলের কথা জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে দিয়ে কোথায় গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। এটিই মানবিকতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম ও আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবীন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।