tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলসর্দি-কাশি ও নাক বন্ধ? ঘরোয়া যত্নে আরাম পেতে যা করবেন

সর্দি-কাশি ও নাক বন্ধ? ঘরোয়া যত্নে আরাম পেতে যা করবেন

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলাব্যথা ও শুকনো কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো নাক দিয়ে পানি পড়ে, আবার শুয়ে পড়লে নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়। এ ধরনের উপসর্গে দৈনন্দিন কাজ ও রাতের ঘুমও ব্যাহত হতে পারে।

কিছু ঘরোয়া উপায় সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপায় সর্দি-কাশি পুরোপুরি সারানোর নিশ্চয়তা দেয় না। উপসর্গের কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

১. যষ্টিমধু, গোলমরিচ ও তুলসীপাতার পানীয়

এক কাপ পানিতে অল্প যষ্টিমধু, কয়েকটি গোটা গোলমরিচ ও কয়েকটি তুলসীপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর ছেঁকে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। গরম পানীয় গলার অস্বস্তি কমাতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

তবে যষ্টিমধু সবার জন্য নিরাপদ নয়। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

২. আখের গুড় ও কালো তিলের নাড়ু

কালো তিলে ক্যালসিয়াম, আয়রন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। কালো তিল হালকা ভেজে গুঁড়া করে নিতে পারেন। এরপর গুড় গলিয়ে তিলের সঙ্গে মিশিয়ে ছোট ছোট নাড়ু তৈরি করুন।

পরিমিত পরিমাণে এই নাড়ু খাওয়া যেতে পারে। তবে এটি সর্দি-কাশি বা গলাব্যথা সারায়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ডায়াবেটিস থাকলে গুড়ের পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

৩. শুকনা আদা ও ধনিয়ার পানীয়

এক গ্লাস পানিতে সামান্য শুকনা আদার গুঁড়া ও কয়েকটি ধনে বীজ দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর ছেঁকে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। স্বাদের জন্য চাইলে সামান্য মধু যোগ করা যায়।

গরম পানীয় গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে এই পানীয় শুকনো কাশি বা অ্যালার্জি দূর করে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।

৪. বেসনের শিরা

বেসন, দুধ, সামান্য ঘি, হলুদ ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি করা যায় বেসনের শিরা। চাইলে এতে অল্প আদাও যোগ করা যেতে পারে। এটি গরম অবস্থায় খেলে গলা আরাম পেতে পারে এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বেসনের শিরা সর্দি-কাশির চিকিৎসা নয়। দুধে অ্যালার্জি বা খাবারসংক্রান্ত বিশেষ সমস্যা থাকলে উপকরণ বেছে নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।

৫. নাক বন্ধ ও সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে যা করবেন

ঘরোয়া পানীয়ের পাশাপাশি কয়েকটি সাধারণ যত্ন উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি, স্যুপ বা উষ্ণ পানীয় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • নাকে স্যালাইন ব্যবহার করুন: স্যালাইন নাকের স্প্রে বা ড্রপ নাক বন্ধের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  • বিশ্রাম নিন: পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করে।
  • ধোঁয়া ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন: এগুলো কাশি ও নাকের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
  • গরম পানির বাষ্পে সতর্ক থাকুন: ফুটন্ত পানির পাত্রের ওপর ঝুঁকে বাষ্প নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে ঝলসে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকে ব্যথা, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, উপসর্গ বাড়তে থাকলে কিংবা কাশি দীর্ঘদিন না কমলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মনে রাখবেন: ঘরোয়া যত্ন সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়।