tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদন‘তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না’—ইকরাকে বলতেন আলভী

‘তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না’—ইকরাকে বলতেন আলভী

অভিনেতা যাহের আলভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, আত্মহত্যার আগে স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরাকে তিনি বলতেন, ‘তুই মরে যা, আত্মহত্যা কর। মরে গেলে কিছু যায় আসে না।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ এসব অভিযোগ আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

জামিনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এটি একটি বহুল আলোচিত মামলা। প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হলেও পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে নানা জটিলতা তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দুই বছর আগে থেকে আলভী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে ইকরা সবকিছু সহ্য করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নানা অনুরোধ-আকুতির পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ইকরাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া আদালতে বলেন, ঘটনার সময় যাহের আলভী দেশে ছিলেন না। তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালে যান, আর ঘটনাটি ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি। বিদেশে থাকায় তিনি আগে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে এবং তিনি পলাতক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করে জামিন প্রার্থনা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদও জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, স্বামীর দায়িত্ব ছিল স্ত্রীর নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অভিযোগ অনুযায়ী, তা না করে তাকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করা হয়েছে। তাই জামিন না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত যাহের আলভীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে আলভীর বাসা থেকে আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

এর আগে গত ৪ জুন যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন যাহের আলভী। দেশে ফেরার পর তাকে যেন গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হলে আদালত তার পক্ষে আদেশ দেন। ওই আদেশের পর ৫ জুন দেশে ফেরেন তিনি।