tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়প্রটোকলের বলয় ভেঙে জনতার কাতারে প্রধানমন্ত্রী

প্রটোকলের বলয় ভেঙে জনতার কাতারে প্রধানমন্ত্রী

রাস্তার দুপাশে মানুষের ভিড়, বাড়ির ছাদে উৎসুক জনতার উপস্থিতি। পথের দুই পাশ থেকে অনেকেই হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছেন, উদ্দেশ্য সাদা শার্ট পরা মানুষটিকে একবার ছুঁয়ে দেখা। তিনি হেঁটে চলেছেন রাজপথ ধরে। তাঁর পরিচয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সেদিনের শোভাযাত্রায় তাঁকে ঘিরে ছিল না রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের চেনা আনুষ্ঠানিকতা। বরং হাজারো মানুষের সঙ্গে একই কাতারে মিশে সাধারণ মানুষের মতোই পথ চলেছেন তিনি।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার রাজপথে দেখা যায় এমন দৃশ্য। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের পাশ দিয়ে হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে এগিয়ে যায় শোভাযাত্রা। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে শেষ হয়।

শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়েই ছিল মানুষের উপস্থিতি। নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, বাংলামোটর হয়ে ফার্মগেট—রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নামে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে দলীয় পতাকা। প্ল্যাকার্ডে স্থান পায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। নানা রঙের টুপি ও টি-শার্ট পরা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।

শোভাযাত্রায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি অংশ নেন দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে আসা মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় জনসমাগমে রূপ নেয়।

তবে শোভাযাত্রার সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ পথ হেঁটে অতিক্রম করা। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার প্রচলিত বলয় থেকে বেরিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটেন তারেক রহমান। জনতার ভিড়ের মধ্যেই কখনো অভিবাদন গ্রহণ, কখনো স্লোগানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তিনি এগিয়ে যান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে।

শোভাযাত্রা শেষে দেওয়া বক্তব্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত…জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। আসুন, আজ এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।’

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ও জনসমাগম নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ হেঁটে অতিক্রম করা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে মানুষের উপস্থিতি ছিল আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন সরকারপ্রধানের দলীয় কর্মসূচিতে এমন সরাসরি অংশগ্রহণ দিনটির শোভাযাত্রাকে দিয়েছে আলাদা দৃশ্যমানতা।