২০০৭ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বিনোদন জগতে যাত্রা শুরু করেন ঢালিউড অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। এরপর মডেলিং ও নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন চলচ্চিত্রে। তবে অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের একটি বিশেষ স্মৃতি এখনো যত্নে আগলে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। সেটি হলো কিংবদন্তি নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে পাওয়া তাঁর প্রথম সম্মানী।
লাক্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার আগে প্রায় দুই বছর ধরে মিডিয়ায় কাজের চেষ্টা করেছিলেন মিম। শুরুতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও তাঁর ইচ্ছা ছিল প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার। একবার অভিনেতা জাহিদ হাসানের বোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও রাজি হননি তিনি। পরে নিজের প্রথম চলচ্চিত্রে সেই জাহিদ হাসানের সঙ্গেই অভিনয়ের সুযোগ হয় তাঁর।
কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বিদ্যা সিনহা মিমের। সিনেমাটিকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন তিনি। কারণ, ক্যারিয়ারের শুরুতেই দেশের একজন গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল।
শুরুর দিকে অভিনয় নিয়ে কিছুটা জড়তা থাকলেও হুমায়ূন আহমেদ তাঁকে স্বাভাবিক হতে সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন মিম।
লাক্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর মডেলিংয়ের পাশাপাশি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ‘রহস্য’ নাটক ছিল তাঁর শুরুর দিকের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। আর এই নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই জীবনের প্রথম সম্মানী পান মিম।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নাটকটির জন্য তিনি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। প্রথম উপার্জনের সেই টাকা মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তবে অর্থের অঙ্কের চেয়েও হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে পাওয়া প্রথম সম্মানী হওয়ার কারণে টাকাটির আবেগীয় মূল্য তাঁর কাছে অনেক বেশি। এখনো স্মৃতি হিসেবে সেটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে মিমের পরিচিতি ও কাজের পরিধি বেড়েছে। নাটকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন চলচ্চিত্রের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। ‘আমার আছে জল’ মুক্তির পর তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিতি বাড়ে। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’।
এরপর ‘জোনাকির আলো’, ‘তারকাঁটা’, ‘পদ্ম পাতার জল’, ‘ইত্তেফাক’, ‘অন্তর্জাল’, ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’-সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’-এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন এই অভিনেত্রী।
একসময় পাঁচ হাজার টাকা ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের প্রথম সম্মানী। আর সময়ের ব্যবধানে তাঁর পারিশ্রমিক ও জনপ্রিয়তা দুটিই বেড়েছে। গত বছর প্রকাশিত এক তথ্যে বলা হয়েছিল, সিনেমাপ্রতি ১৫ লাখ টাকার বেশি পারিশ্রমিক নেন মিম। অন্যদিকে, তাঁর অভিষেক চলচ্চিত্র ‘আমার আছে জল’-এর জন্য পারিশ্রমিক ছিল তিন লাখ টাকা।
তবে সাফল্য, জনপ্রিয়তা কিংবা পারিশ্রমিকের অঙ্ক যতই বাড়ুক, অভিনয়জীবনের শুরুর সেই পাঁচ হাজার টাকার স্মৃতি আজও বিশেষ জায়গা দখল করে আছে বিদ্যা সিনহা মিমের মনে।



