tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত: তারেক রহমান

ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত: তারেক রহমান

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিশাল শোভাযাত্রা; নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত জনস্রোত

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল শোভাযাত্রার আগে রাজধানীর নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশের জনগণ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা আবারও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়।

তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি, তাদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। তবে এ দেশের মানুষকে আর দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, একাত্তর, নব্বই এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতোই আবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে চায় বাংলাদেশের মানুষ। এবারের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র সুরক্ষার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত হবে।

নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ—জনতার ঢল

গণসমাবেশ শেষে বেলা সোয়া তিনটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি নিজেই হেঁটে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়েই ছিল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা নেড়ে এবং করতালির মাধ্যমে মিছিলকে স্বাগত জানান। বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছে একটি খোলা ট্রাক থেকে হ্যান্ড মাইকে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। এ সময় তিনি কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সকাল থেকেই নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের সমাগম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।

বিএনপির রাজনৈতিক বয়ানে দিনটি জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। দলটির মতে, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রেরণা।

সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি বিএনপির

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিন শনিবার ভোরে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান।

এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং দেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরে সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত হয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, সাত দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।