tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসারাদেশগাজীপুরের ‘ফাইভ মার্ডার’ : সন্দেহের তালিকায় দুইজন

গাজীপুরের ‘ফাইভ মার্ডার’ : সন্দেহের তালিকায় দুইজন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দুইজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সালমা খাতুন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। সেখানে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। নিহত শিশুদের মরদেহ দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাগুলোকে দেখে খুব কষ্ট লেগেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনও দেখিনি।’

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন— প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফুরকান মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি পালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।

রাশিদার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুর মরদেহ। শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েস, কোকাকোলার বোতল এবং কিছু প্রিন্ট করা কাগজ জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ করা কাগজপত্রে দেখা যায়, ফুরকান মিয়া তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগও উল্লেখ ছিল।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।