কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনে নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুসরণ করা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্রের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের দাবি করে বিষয়টি তদন্ত এবং নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি।
এলাকাবাসীর পক্ষে ফখরুল হাসান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম ফারুক ও মনিরুল হক আবেদনটি করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মসজিদ পরিচালনা কমিটির গঠনতন্ত্রের ৩ নম্বর ধারায় পাঁচটি গ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে খারেরা গ্রামের তিনজন, মাশরা গ্রামের দুজন, মনোহরপুর গ্রামের দুজন, মাধবপুর গ্রামের একজন এবং লোহাইমুড়ী গ্রামের দুজন সদস্য থাকার কথা।
কিন্তু ওই বিধান অনুসরণ না করে সম্প্রতি ১৩ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, নতুন কমিটিতে খারেরা গ্রামের পাঁচজন এবং মাধবপুর গ্রামের দুজনসহ মোট ১৩ জনকে রাখা হয়েছে।
আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, গঠনতন্ত্রের ৩ নম্বর ধারার (ঘ) উপধারা অনুযায়ী আগের পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরাই পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উপদেষ্টা কমিটি গঠন ও মোতাওয়াল্লি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গঠনতন্ত্রের নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সাধারণ মুসল্লিদের মতামতও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লি বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গঠনতন্ত্র অমান্য করে কমিটি গঠন করায় মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, কমিটি বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। এ কারণেই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার সভাপতির
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ। তার দাবি, আগের কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং মোতাওয়াল্লির সঙ্গে যোগসাজশ করে মসজিদের জমি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের জমি মোতাওয়াল্লির বাবার নামে রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
ফারুক আহমেদ আরও দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে আগের কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
তার ভাষ্য, পাঁচ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিদের অংশগ্রহণেই নতুন কমিটি করা হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল না। তদন্ত হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে।
নিজের সভাপতি হওয়া প্রসঙ্গে ফারুক আহমেদ বলেন, তিনি পদটি নিতে আগ্রহী ছিলেন না; এলাকার লোকজনের অনুরোধেই তাকে সভাপতি করা হয়েছে।
তবে কমিটি গঠনে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।



