বহুল প্রতীক্ষিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর দেশে আবারও সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদ সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
তফসিল অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। তবে অসুস্থতার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর জাতীয় সংসদ ভবনেই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। পরে গেজেট প্রকাশের পর আগামীকাল বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে কেবল সরকারদলীয় প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসন বর্তমানে শূন্য। সংরক্ষিত আসনে রয়েছেন ৫০ জন সংসদ সদস্য। সব মিলিয়ে সংসদে বর্তমানে ৩৪৯ জন সদস্য রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
সংরক্ষিত আসনসহ সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭ জন। এছাড়া জামায়াতের ৭৭, স্বতন্ত্র ৮, এনসিপির ৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১, বিজেপির ১, গণসংহতি আন্দোলনের ১, গণপরিষদের ১, খেলাফত মজলিসের ১ এবং জাগপার ১ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিইসি জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। তাদের ভোট প্রদান বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট অংশ। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং ‘বিভক্তি নম্বর’। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করার পর সংসদ সদস্য ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।
ব্যালট পেপারের মূল অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপার নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ পদত্যাগের কারণে শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। সেই সময়সীমার আগেই আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।



