উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক পার্লামেন্টারি কমিটিতে এ তথ্য জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক হিসাব নয়; বরং বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই অনুমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি। বুধবার (১৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে আন গিউ-বেক বলেন, ‘সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।’ তবে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও আবার প্রত্যাখ্যান করেছে। সিউল দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের নীতি অনুসরণ করে আসছে।
আন গিউ-বেক জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারি না এবং মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র পুনঃমোতায়েন গ্রহণ করাও আমাদের উচিত হবে না।’
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের উদ্যোগ নিচ্ছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে পিয়ংইয়ং এ উদ্যোগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, মহড়ার পরিধি কমানো হলেও এর মূল চরিত্র এখনও উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে একাধিক শীর্ষ বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা শেষ পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়ে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে আগ্রহী ট্রাম্প।



