ভূস্বর্গখ্যাত জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বুধবার (১৯ আগস্ট) শ্রীনগরে পৌঁছে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রশংসা করে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) শিথিল করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে গেছেন সার্জিও গোর। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি প্রথমবারের মতো এখানে এসেছি। এটি অবিশ্বাস্য সুন্দর একটি জায়গা।’
ওমর আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে গোর বলেন, তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
গত বছর ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের জম্মু-কাশ্মীর সফরটি প্রথম। আঞ্চলিক কৌশলগত পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোরের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশেষভাবে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, সে বিষয়ে কথা হয়েছে। কিছু পুরোনো বিষয় রয়েছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে সমাধানের জন্য আমরা কাজ করব। আমরা এই আলোচনা আরও এগিয়ে নিতে চাই।’
ওয়াশিংটন, নয়াদিল্লি ও শ্রীনগরের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ বলেন, আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত ও গভীর হতে পারে।
ভ্রমণ সতর্কতা কমানোর ইঙ্গিত
গোরের সফরে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যগুলোর একটি আসে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা প্রসঙ্গে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের ও অঞ্চলের ভ্রমণ সতর্কতা পর্যালোচনা করে। জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান সতর্কতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
অঞ্চলটির উন্নত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রশংসা করে গোর বলেন, এ বিষয়ে তিনি এখনই কোনো ‘বড় ঘোষণা’ দিতে পারছেন না। তবে ভ্রমণ সতর্কতা কমানো উচিত কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লি, এখানকার মুখ্যমন্ত্রী এবং এখানকার সরকার—আমরা বিশ্বাস করি, এই এলাকাকে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে তারা অসাধারণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ভ্রমণ সতর্কতা কমানো উচিত কি না, আমরা তা পর্যালোচনা করব।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর এলাকা। আমার মনে হয়, অনেক আমেরিকান এখানে এসে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইবেন।’
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা দীর্ঘদিনের একটি উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে অঞ্চলটির উদ্যোগ যখন জোরদার করা হচ্ছে, তখন সতর্কতা শিথিল হলে তা পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভ্রমণ সতর্কতায় কোনো পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গোরের বক্তব্য থেকে শুধু ইঙ্গিত মিলেছে, বিষয়টি ওয়াশিংটনে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতে মার্কিন কূটনীতিকরা জম্মু-কাশ্মীর সফর করেছেন। ২০২৪ সালের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরেও মার্কিন কূটনীতিকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখা যায়। তবে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে গোরের মন্তব্য এবং ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত নয়াদিল্লি ও শ্রীনগরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরের পরবর্তী পর্যায়ে শুক্রবার লেহতে দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে সার্জিও গোরের।



