tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদজাতীয়রবীন্দ্রচেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে দেশ : চিফ হুইপ

রবীন্দ্রচেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে দেশ : চিফ হুইপ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কবিতা ও দর্শন যুগে যুগে বাঙালি জাতিকে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর সাহিত্যচেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

চিফ হুইপ বলেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্রতিটি পঙক্তি সংগ্রাম, সত্য ও মানবতার বার্তা বহন করে। তিনি কবির বিখ্যাত পঙক্তি— ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা’— উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণও কঠিন বাস্তবতাকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করেছিল বলেই দীর্ঘ আন্দোলনের পর একটি নতুন ভোরের দেখা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও তারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। সেই শক্তির উৎস ছিল সত্যের প্রতি বিশ্বাস এবং কঠিন বাস্তবতাকে ধারণ করার মানসিকতা।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের প্রসঙ্গ টেনে মো. নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা একজন চিন্তাবিদ ছিলেন। ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতার চেতনা আজও সমাজকে নবজাগরণের পথ দেখায়। যখন সমাজে স্থবিরতা তৈরি হয়, তখন তরুণরাই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল।

তিনি বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটকসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই রবীন্দ্রনাথের অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি শুধু একজন কবিই নন, ছিলেন সুরকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও দার্শনিক। বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের আবেদন আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। দেশকে একটি মানবিক, সংস্কৃতিমনা ও প্রগতিশীল সমাজে রূপ দিতে নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি জরুরি। অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারায় ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না; মানুষ সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করবে নতুন দিনের আলোর প্রত্যাশায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। এতে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।