টানা সাত বছর অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পর আবারও মদ্যপানে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট। সম্প্রতি ‘এসকোয়ার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময় ও মদ্যপানের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা খোলামেলা জানিয়েছেন তিনি।
অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর পারিবারিক জটিলতা ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে, একপর্যায়ে আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল তার মনে।
সাক্ষাৎকারে পিট জানান, দীর্ঘ সময় অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পর একসময় আবার মদ্যপানে ফিরে যান তিনি। তবে বর্তমানে নিজের মদ্যপান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও জানান অভিনেতা। অতিরিক্ত মদ্যপান তার জন্য ভালো নয়—এমন উপলব্ধিও হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পর আবার মদ্যপানে ফিরে যাওয়াকে সাধারণভাবে অ্যালকোহল রিল্যাপ্স বলা হয়। এটি অনেকের পুনরুদ্ধার বা রিকভারি প্রক্রিয়ার একটি ঝুঁকি। তবে রিল্যাপ্স মানেই পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়; দ্রুত সহায়তা নেওয়া গেলে আবারও সুস্থতার পথে ফেরা সম্ভব।
রিল্যাপ্সের ৩টি ধাপ
মদ্যপানের অভ্যাস সাধারণত হঠাৎ করে ফিরে আসে না। এর আগে কয়েকটি মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
১. আবেগীয় ধাপ:
এই পর্যায়ে ব্যক্তি সরাসরি মদ্যপানের কথা নাও ভাবতে পারেন। তবে অনিয়মিত ঘুম, একাকীত্ব, মানসিক চাপ বা নিজের যত্নে অবহেলার মতো বিষয় ধীরে ধীরে তাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২. মানসিক দ্বন্দ্বের ধাপ:
মদ্যপানের পুরোনো অভিজ্ঞতা মনে পড়তে শুরু করে। অতীতের মদ্যপানকে ভালো দিক দিয়ে মনে হতে পারে এবং মদ খাওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তৈরি হতে পারে।
৩. শারীরিক ধাপ:
শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি আবার অ্যালকোহল পান করতে পারেন। এই পর্যায় থেকে আগের অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
রিল্যাপ্স ঠেকাতে যা করবেন
রিল্যাপ্সের প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সহায়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করুন:
পরিবার, বিশ্বস্ত বন্ধু, রিকভারি গ্রুপ বা অন্য সহায়ক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। কঠিন সময়ে একা না থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রিগার চিহ্নিত করুন:
কোন পরিস্থিতি, ব্যক্তি, জায়গা বা মানসিক চাপ আপনাকে মদ্যপানের দিকে ঠেলে দেয়, তা আগে থেকেই শনাক্ত করুন। সম্ভব হলে এসব পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন বা বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন।
HALT মনে রাখুন:
ক্ষুধা, রাগ, একাকীত্ব ও অতিরিক্ত ক্লান্তি—এই চার অবস্থায় মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
স্ট্রেস মোকাবিলার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি বেছে নিন:
শরীরচর্চা, হাঁটা, যোগব্যায়াম, ধ্যান বা অন্য স্বাস্থ্যকর কার্যক্রম মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।
থেরাপি বা চিকিৎসা চালিয়ে যান:
যারা অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যার জন্য চিকিৎসা বা থেরাপি নিচ্ছেন, তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT)-সহ প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন:
অ্যালকোহলমুক্ত বা নিয়ন্ত্রিত জীবনের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করুন।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন:
পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
রিল্যাপ্স হলে কী করবেন?
আবার মদ্যপান শুরু হয়ে গেলে নিজেকে ব্যর্থ মনে করে হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং কী কারণে রিল্যাপ্স হলো, তা বোঝার চেষ্টা করে নতুন করে একটি রিল্যাপ্স-প্রিভেনশন পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
রিকভারি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাময়িকভাবে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত সহায়তা নেওয়া এবং চিকিৎসা বা থেরাপির সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে আসক্তি চিকিৎসায় অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি লাইফলাইন



