তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ক্লান্তি ও অলসতা বাড়ে। ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রমেও অনীহা তৈরি হতে পারে। অসহ্য গরম, অতিরিক্ত ঘাম ও ত্বকের নানা অস্বস্তি ফিট থাকার প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে জীবনযাপনে কিছু সহজ ও বিজ্ঞানভিত্তিক অভ্যাস যুক্ত করলে গরমেও শরীরকে সতেজ রাখা সম্ভব।
ফিজিক গ্লোবাল ও বায়োহ্যাকিং ডিরেক্টরির প্রতিষ্ঠাতা জাগ চিমার মতে, তীব্র গরম মোকাবিলায় ‘বায়োহ্যাকিং’ হতে পারে কার্যকর একটি পদ্ধতি। বিজ্ঞান ও আধুনিক কৌশল কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা উন্নত করার এই পদ্ধতির কিছু সহজ অভ্যাস গরমের সময় শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
গরমের দিনে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে জাগ চিমার পরামর্শ দেওয়া ছয়টি অভ্যাস হলো—
১. দিন শুরু করুন পর্যাপ্ত পানি দিয়ে
রাতের ঘুমের পর সকালে এক গ্লাস পানি দিয়ে দিন শুরু করুন। সারাদিন সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ।
২. বজায় রাখুন ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য
প্রখর গরমে শুধু পানি পান করাই সবসময় যথেষ্ট নয়; ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। কলা, অ্যাভোকাডো, সবুজ শাকসবজি ও বাদাম এ ধরনের পুষ্টির ভালো উৎস।
৩. সকালে নিন পরিমিত সূর্যালোক
সূর্যালোক শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে রাতে ঘুমের মান ভালো হওয়া এবং দিনের বেলায় সতেজ থাকতে সুবিধা হতে পারে।
তবে তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছায়ায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৪. গোসলের পানির তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন
গরমে গোসল শরীরকে সতেজ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। কেউ কেউ সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করে সতেজতা অনুভব করেন। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই শরীরের সহনীয় ও আরামদায়ক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো।
৫. সচেতনভাবে শরীরচর্চা করুন
হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো পরিমিত ব্যায়াম নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে এবং মন-মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে প্রচণ্ড গরমে ব্যায়ামের সময় ও তীব্রতা কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অতিরিক্ত ঘাম বা দুর্বলতা অনুভূত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
৬. নিশ্চিত করুন মানসম্মত ঘুম
গরমে ভালো ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব ঠান্ডা, আরামদায়ক ও অন্ধকার রাখুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্যবহার কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা ভালো। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম পরদিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: জি নিউজ



