tanaka

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ: কারা কখন দেখতে পাবেন, বাংলাদেশে কি দেখা যাবে

বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে আজ বুধবার (১২ আগস্ট)। গ্রহণটির পূর্ণগ্রাসের পথ উত্তর আটলান্টিক, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশসহ উত্তর...
প্রচ্ছদরাজনীতিঅপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার অবসান হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চাইছে না। দলের দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন, স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। ফলে ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।

বিএনপি একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের অর্থ যে দুটি আলাদা প্রার্থী, এমন নয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হওয়া যায়।

ফখরুলের নামই কেন সামনে

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সূত্রে উঠে আসছিল। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তার নামেই সম্মতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, ফখরুল ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত সম্মতিও দিয়েছেন।

বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে মনোনয়ন দাখিলের আগেই ফখরুলকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

এদিকে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এমন রাজনৈতিক আলোচনা দেখা যায়নি। এবার সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনটির ফলাফলও অনেকটা পূর্বনির্ধারিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে ফখরুল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলাও দীর্ঘ। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে প্রবেশ করেন।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

দলের কঠিন সময়েও বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফখরুল ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। দীর্ঘদিনের এই ভূমিকার পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম সামনে আসায় বিষয়টি বিএনপির রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাবে—রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই কি না। তবে দলীয় সূত্রের তথ্য এবং সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত তার নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে।