tanaka

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নবীন শিক্ষার্থীকে মেসে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোররাত ৪টা...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমনমোহনের বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের পর মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

মনমোহনের বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের পর মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় স্বস্তি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দেওয়া মামলা বন্ধের প্রতিবেদন গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তও বাতিল করেছে, যার ভিত্তিতে মনমোহন সিংহকে মামলায় তলব করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তার দাবি, মনমোহন সিংহকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রচারের অবসান ঘটিয়েছে এই রায়।

সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলা বন্ধের প্রতিবেদন গ্রহণ করে। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়, যার ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে মামলায় তলব করা হয়েছিল।

সোনিয়ার দাবি, মনমোহন সিংহকে রাজনৈতিকভাবে কলঙ্কিত করার দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তার সততা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায় সেই অভিযোগগুলোর ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মনমোহন সিংহের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও প্রশংসা করেছেন সোনিয়া। তার মতে, ইতিহাস মনমোহনকে একজন শান্ত, নম্র এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ১০ বছরের সময়ে অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

মোদির পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সোনিয়া বলেন, মনমোহন সিংহকে নিয়ে অতীতে যে ধরনের কটূক্তি করা হয়েছিল, তা ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম নিম্নমুখী অধ্যায়। বিশেষ করে ২০১৭ সালে রাজ্যসভায় মোদির করা মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।

এর পাশাপাশি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সোনিয়া। তার দাবি, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। আবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়ার পর অনেকের বিরুদ্ধে চলা অভিযোগের চিত্রও বদলে যায়।

সোনিয়ার অভিযোগ, বিরোধী শিবিরে থাকলে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়ার পর তাদেরই অনেকে হঠাৎ স্বচ্ছ হিসেবে বিবেচিত হন। এই প্রবণতাকে তিনি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

মনমোহন সিংহ সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন সোনিয়া। তার দাবি, ওই সময়ে ভারতের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় বেড়েছিল এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছিলেন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও ভারত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক নীতির ক্ষেত্রেও মনমোহন সরকারের ভূমিকার কথা বলেন সোনিয়া। শিক্ষার অধিকার, খাদ্যের অধিকার, তথ্য জানার অধিকার, বনবাসী ও আদিবাসীদের অধিকার এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন আইন ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকারকে কেন্দ্র করে নেওয়া এসব উদ্যোগ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছিল।

মনমোহন সিংহের আমলে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিয়েও মন্তব্য করেন সোনিয়া। তার দাবি, তখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন এবং প্রধানমন্ত্রীকেও প্রকাশ্যে প্রশ্ন করার পরিবেশ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাই করেছেন তিনি।

কয়লা খনি বরাদ্দ মামলাটির সূত্র অবশ্য বহু পুরোনো। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তদন্তের পর মামলা বন্ধের প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু বিশেষ আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে ২০১৫ সালে মনমোহন সিংহসহ কয়েকজনকে মামলায় তলব করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মনমোহন সিংহ। পরে সর্বোচ্চ আদালত ওই সমন স্থগিত করে দেয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই মামলাটিরও অবসান ঘটে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর মনমোহন সিংহ মারা যান। তার মৃত্যুর পরও মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি নিয়ে আগ্রহ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়, বিশেষ আদালতের পক্ষে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলা বন্ধের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার যথেষ্ট কারণ ছিল না।

এই রায়ের পর কংগ্রেসের রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যে। একদিকে মনমোহন সিংহের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে আনা, অন্যদিকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ—দুইয়ের সমন্বয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পুরোনো রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সোনিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট, মনমোহন সিংহকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন করে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। তার মতে, এই রায় মনমোহন সিংহের সততা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। আর সেই সুযোগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেত্রী।