tanaka

ভারতে নানকের কাছে মাসে যায় কোটি টাকা, নেপথ্যে কারা

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল ও...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকহরমুজের পর এবার লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের

হরমুজের পর এবার লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের

ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে তেহরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্রগুলোর দাবি, এ বিষয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সেই বার্তাও হুথি নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার আগে নাকি পরে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথিদের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। ইয়েমেনের হোদেইদাহ ও এডেন উপসাগরসংলগ্ন উঁচু এলাকাগুলোতে এসব অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে এবং এখন কেবল হামলার নির্দেশের অপেক্ষা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই কার্যত অচল অবস্থায় থাকায় যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচলে হামলা শুরু হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথ একযোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেব প্রণালি কখন বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে হুথিরা সোমবার সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তাদের দাবি, সৌদি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে গেছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবইর্ন সলভেদট বলেন, হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পুরো অঞ্চলই অস্থিতিশীল। তাঁর মতে, এই সংঘাত যদি লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম বিকল্প পথও হুমকির মুখে পড়বে।

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের এ হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরব। তাদের মতে, লোহিত সাগরকে কেন্দ্র করে হুথিরা এখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ জ্বালানি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথেও হামলা হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

একটি আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলাই ইরানের লক্ষ্য। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির পথকে ঝুঁকির মুখে ফেলাও সেই পরিকল্পনার অংশ।

সূত্রটি আরও দাবি করে, “এই প্রণালি বন্ধ করা খুব কঠিন নয়। সাধারণ অস্ত্র দিয়েও জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা সম্ভব। এজন্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন নেই।”

ইরান হুথিদের তাদের আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স‘ জোটের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এই জোটে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীও রয়েছে। তবে হুথিরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং এ সহায়তার একটি অংশ হিজবুল্লাহর মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও তেহরান বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।