এশিয়ার তিন প্রভাবশালী নেতা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে টেকসই আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে নয়াদিল্লিতে তাদের এই উপস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তবে সবার নজরের কেন্দ্রে ছিলেন মোদি, শি ও পুতিন। এর অন্যতম কারণ, ভারত ও চীন এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জোরদারে এই তিন দেশের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিন নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর স্বার্থ ও উন্নয়নকে সামনে রেখে নতুন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে রোববার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদীয়মান বাজার ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় শি জিনপিং পাঁচ দফা পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে—
১. উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ।
২. বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ।
৩. ডিজিটাল শিল্পে সহযোগিতা উদ্যোগ।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
বৈশ্বিক রাজনীতিতে যখন শক্তির ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর একই প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতার বার্তা দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা কীভাবে সমন্বয়ের পথ তৈরি করে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়।
ব্রিকসের সম্প্রসারিত পরিসর এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলনকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।



