tanaka

সৌদিতে বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হুতি হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবের মদিনায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হুতিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পবিত্র মসজিদে নববীকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রচ্ছদখেলাহংকং ম্যাচে টাইগারদের তিন চ্যালেঞ্জ: প্রতিপক্ষ, পরিসংখ্যান আর অতীত স্মৃতি

হংকং ম্যাচে টাইগারদের তিন চ্যালেঞ্জ: প্রতিপক্ষ, পরিসংখ্যান আর অতীত স্মৃতি

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য—‘সুপার ফোর’-এ জায়গা করে নেওয়া, অর্থাৎ টুর্নামেন্টের সেরা চার দলের একটি হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের পথটা শুরু হচ্ছে গ্রুপ পর্ব থেকে, যেখানে অন্তত দুটি ম্যাচ জিতলেই পরের ধাপে পৌঁছানো সম্ভব।

সমর্থকদের আশা, গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ হংকংয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে। এরপর আফগানিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মধ্যে যে কোনো এক দলকে হারালেই টাইগারদের সেরা চারে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় মাঠে, আর সেখানেই দিতে হবে আসল পরীক্ষা।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের চেয়ে শ্রীলঙ্কা তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। কারণ মাত্র দুই মাস আগে লঙ্কানদের ঘরের মাঠে সিরিজ জিতে এসেছে টাইগাররা, যা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে অনেকগুণ।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের রশিদ খান, ফজলহক ফারুকি, নুর আহমেদ, মোহাম্মদ নবি—এই অভিজ্ঞ বোলারদের বিপক্ষে ব্যাট করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটারদের জন্য। ফলে হংকংয়ের পর শ্রীলঙ্কাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্য।


হংকং ম্যাচ: সহজ নাকি প্রতারণামূলক প্রতিপক্ষ?

আজ (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে হংকং অনেক পিছিয়ে—আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে তাদের নামই নেই শীর্ষ ২০-এ। তুলনায় বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা আর সামর্থ্যে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। ফলে জয় প্রত্যাশিতই।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয়ে হংকং ৯৪ রানে হেরেছে। সেই ফল দেখে অনেকেই মনে করছেন, আজকের ম্যাচটা হবে বাংলাদেশের জন্য একরকম ‘ওয়ার্ম আপ’। তবে ক্রিকেটের ইতিহাস বলে, অঘটন বলেও একটা শব্দ আছে।

২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়েছিল মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়ে। তখন হংকং ম্যাচ জিতেছিল ২ উইকেটে। যদিও সেটা ১১ বছর আগের ঘটনা, তারপরও এমন অতীত স্মৃতি খেলোয়াড়দের মনের কোণে একরকম মনস্তাত্ত্বিক চাপ হয়ে থাকতে পারে।


আরও একটি বাধা—আবু ধাবির মাঠে বাংলাদেশের ইতিহাস

হংকংয়ের বিপক্ষে পরিসংখ্যানগত মনস্তাত্ত্বিক বাধার পাশাপাশি আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামও টাইগারদের জন্য শুভ নয়। এই মাঠে বাংলাদেশ এখনো জয় পায়নি।

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখানেই দুটি ম্যাচ খেলে টাইগাররা দুটিতেই হেরেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৪ রান করে হেরেছে ৮ উইকেটে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৮৪ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে ৬ উইকেটে। এমনকি ওয়ার্ম আপ ম্যাচেও জয় পায়নি দলটি। লিটন দাসের নেতৃত্বে সেদিন ১৪৭ রানে থেমে গিয়ে ৪ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।


সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচে টাইগারদের সামনে তিনটি চ্যালেঞ্জ—

  1. হংকংকে হারানোর বাস্তব চাপ ও প্রত্যাশা
  2. ২০১৪ সালের হারের স্মৃতি—মনস্তাত্ত্বিক চাপ
  3. আবুধাবির মাঠে জয়ের অনভিজ্ঞতা

লিটন দাস, তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন, জাকের আলী, তাসকিন ও মোস্তাফিজদের সেই বাধার দেয়াল ডিঙিয়ে আজ প্রমাণ করতে হবে—তারা শুধু ফেভারিটই নয়, বাস্তবে জয়ের যোগ্য দাবিদারও।

এশিয়া কাপে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করতে পারবে তো টাইগাররা? সেটাই দেখার অপেক্ষা।