tanaka

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ...
প্রচ্ছদখেলাস্পেনকে সামনে রেখে মেসির বার্তা: ‘এটি হবে বিশেষ এক ফাইনাল’

স্পেনকে সামনে রেখে মেসির বার্তা: ‘এটি হবে বিশেষ এক ফাইনাল’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচকে সামনে রেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

মেসির মতে, স্পেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। তাদের দারুণ সব ফুটবলার আছে, খেলায় অসাধারণ সংগঠন রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে একই দর্শনে খেলছে। অনেক খেলোয়াড়কে আমি ভালোভাবে চিনি, অনেকের বিপক্ষে খেলেছি, আবার কয়েকজন বার্সেলোনারও খেলোয়াড়—যে ক্লাবটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। তাই এটি আমার জন্য বিশেষ একটি ফাইনাল। আমি মনে করি, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’

ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দ ছিল অন্যরকম

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই জয়কে সাধারণ কোনো জয় হিসেবে দেখছেন না মেসি।

তিনি বলেন,
‘মাঠে প্রবেশের সময় এবং জাতীয় সংগীত বাজানোর মুহূর্তে আমরা সবাই এক বিশেষ অনুভূতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। পুরো দলই সেটা অনুভব করেছে। এটি শুধু আরেকটি জয় নয়, এটি এমন একটি জয়, যা আর্জেন্টিনার মানুষ চেয়েছিল, আমরাও চেয়েছিলাম। সেই জয়ই আমাদের আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে এসেছে।’

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, টানা পাঁচটি বড় ফাইনাল

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক সাফল্যে গর্বিত মেসি।

তিনি বলেন,
‘পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই দল কঠিন পরিস্থিতিতেও কখনো হাল ছাড়ে না। আমরা নিজেদের খেলায় বিশ্বাস রেখেছি, পিছিয়ে থেকেও প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। টানা পাঁচটি বড় ফাইনাল এবং টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল—এটি সত্যিই অসাধারণ অর্জন।’

‘এই দল কখনো আমাকে হতাশ করে না’

দলের মানসিক দৃঢ়তা নিয়েও উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

মেসি বলেন,
‘বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই দলকে নিয়ে আমার বিশ্বাস ছিল। জানতাম আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। অনেকে সন্দেহ করেছিল, কারণ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট ছিল না। কিন্তু এই দল একসঙ্গে থাকলে সবসময় নিজেদের সেরাটা বের করে আনে। একজন আরেকজনকে অনুপ্রাণিত করে, নিজেদের অজানা শক্তিও খুঁজে পায়। এই দল আমাকে কখনো হতাশ করে না।’

সমর্থকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন,
‘আমরা যেমন এই মুহূর্ত উপভোগ করছি, আপনারাও তেমন উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে, বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। গত চার বছর আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাটিয়েছি, এখন আবারও ফাইনালে। আজ আমরা শেষ বাধা পার করেছি, বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।’

সমালোচকদেরও জবাব দিলেন মেসি

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও ফাইনালে ওঠাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন মেসি।

তিনি বলেন,
‘বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে, গত চার বছরে আমরাই সেরা—মানুষ সেটা মানুক বা না-মানুক। আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। আমাদের অর্জনগুলো কাকতালীয় নয়, কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা খুব কম দলই পারে।’

বিশ্বকাপের জন্য এক বছরের প্রস্তুতি

বিশ্বকাপের আগে নিজের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন মেসি।

তিনি জানান,
‘গত বছরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সবকিছু স্কালোনির সঙ্গে আলোচনা করেই করেছি। নিজেকে সেরা অবস্থায় আনতে এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। ডিসেম্বরজুড়ে আর্জেন্টিনায় সকাল-বিকেল অনুশীলন করেছি। আমি জানতাম, বিশ্বকাপ উপভোগ করতে হলে শতভাগ ফিট থাকতে হবে।’

কোপা আমেরিকার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন,
‘সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় আমি শতভাগ ফিট ছিলাম না। চিলির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পেয়েছিলাম, এরপর সেই চোট নিয়েই পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছি। তাই এবার শুরু থেকেই নিজেকে সর্বোচ্চভাবে প্রস্তুত করেছি।’

‘মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি’

দেশের মানুষের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি।

তিনি বলেন,
‘আমরা গর্বিত যে মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি। আমাদের দেশে অনেক মানুষ কষ্টে জীবন কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারা, আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিল মর্যাদার লড়াই

সেমিফাইনালের গুরুত্ব তুলে ধরে মেসি বলেন,
**‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল বিশেষ একটি ম্যাচ। আমরা হারতে পারতাম না। এই দল কারও কাছে কিছু পাওনা নয়, কিন্তু আমরা জানি আর্জেন্টিনার মানুষ সবসময় আরও বেশি প্রত্যাশা করে। আমরা জানতাম, ফুটবলীয় দিক থেকে আমরা ভালো দল। এমন ম্যাচে ইতিহাসও তৈরি হয়। তাই এই জয় আমাদের জন্য বিশেষ ছিল, এবং জিততেই হতো।’