যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তাকে পদত্যাগের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি এবং চার মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনায় লেবার পার্টির অভ্যন্তরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েজ স্ট্রিটিং যেকোনো সময় স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল, ওয়েলসের সেনেড এবং স্কটল্যান্ড পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলীয় সংকট আরও গভীর হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং বেশ কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্টারমার তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে তা সরকারের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে এবং দলীয় অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। তবে লেবারের ভেতরের একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান নেতৃত্ব বহাল থাকলে সামনের নির্বাচনগুলোতেও দলের ভরাডুবি অব্যাহত থাকতে পারে।
এমন টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েজ স্ট্রিটিংয়ের। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, বৈঠকের আগেই তিনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার ঘোষণা দিতে পারেন।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি সামনে আনতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা এমপি ও দলীয় সদস্যদের সমর্থন অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের স্টারমারের বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা লেবার পার্টির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই ওয়েজ স্ট্রিটিং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তিনি সত্যিই নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামবেন কি না।



