tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকসংসদের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে মোদি-বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি কংগ্রেসের

সংসদের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে মোদি-বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি কংগ্রেসের

সংসদে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির পর এবার সেই আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। সংসদের ভেতরে তাদের কর্মসূচি জনসাধারণের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেটিও পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে দলটি।

এ নিয়ে আগামী ১৯ আগস্ট কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেস। তবে সংসদের বাইরে এসব কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া কতটা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দলের ভেতরে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে, শুধু সংসদে সরকারের সমালোচনা করে রাজনৈতিক বার্তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সেই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে নিতে হলে মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সংগঠিত আন্দোলন প্রয়োজন।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। আগামী ২২ আগস্ট মহারাষ্ট্রের পুনেতে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর। এর আগে উত্তরাখণ্ড, বিহার ও প্রয়াগরাজেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যেও ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং সরকারি নিয়োগ নিয়ে তরুণদের মধ্যে থাকা অসন্তোষকে রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে কংগ্রেস। দলের ধারণা, এসব বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে ছাত্র ও তরুণদের সংগঠিত করা গেলে আন্দোলনের ভিত্তি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এদিকে উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির অর্থ চুরির অভিযোগকেও রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে কংগ্রেস। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ায় অযোধ্যাকেন্দ্রিক যেকোনো ইস্যুকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দলটি।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও রামমন্দিরের প্রণামির অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনতে আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সমঝোতা বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকায়, এই ইস্যুতে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করতে পারে।

তবে কংগ্রেসের পরিকল্পনা উত্তরপ্রদেশেই সীমাবদ্ধ রাখার কথা নয়। হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ডসহ হিন্দি বলয়ের অন্যান্য রাজ্যেও স্থানীয় অভিযোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামনে উৎসবের মৌসুম থাকায় কর্মসূচির সময়সূচি ও ধরন নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। আগামী ১৯ আগস্টের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সংসদে তোলা রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করা। সংসদের প্রতিবাদকে যদি কার্যকর জনসম্পৃক্ত আন্দোলনে রূপ দেওয়া যায়, তবেই তা নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সংসদের লড়াইয়ের পর রাজপথে নিজেদের সংগঠন ও জনসমর্থন কতটা বাড়াতে সক্ষম হয় কংগ্রেস।