ভারতে প্রশ্নফাঁস, বেকারত্বসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-কে ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই বড় রাজনৈতিক চাপে রূপ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের জন্য। তরুণদের এই আন্দোলনকে ঘিরে বিজেপির প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। পরে সেই অনলাইন উদ্যোগই ধীরে ধীরে রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেয়।
টানা কয়েক সপ্তাহের ছাত্র বিক্ষোভের ফলে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্ব পেতে শুরু করে। আন্দোলনের প্রভাব হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাও সামনে এসেছে। একই সময়ে বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মতো বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে দলটির পরাজয় এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি উপনির্বাচনের ফল তরুণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণদের ক্ষোভ সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও, সেলফি ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এসব প্রচেষ্টায় তরুণদের প্রতিক্রিয়া একেবারে ইতিবাচক হয়নি; বরং সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনাও দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যাপক ও তুলনামূলকভাবে দলনিরপেক্ষ চরিত্র। অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে মোকাবিলা করার সুযোগ থাকলেও জেন-জি তরুণদের এই আন্দোলনের ক্ষেত্রে সেই কৌশল আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।
তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ভবিষ্যতে সরাসরি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ না করেও এই প্ল্যাটফর্ম বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি ও জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন ইঙ্গিত না থাকলেও তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা ও যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে ‘ককরোচ’ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত শুধু একটি ছাত্র আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



