tanaka

বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানিদের ইতিবাচক মনোভাব বেশি, ভারতে তুলনামূলক কম: পিউ জরিপ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে একে অপরকে নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য উঠে এসেছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে। এতে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার...
প্রচ্ছদরাজনীতিশেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ রিজভীর

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ রিজভীর

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ক্ষমতায় থাকার আকাঙ্ক্ষাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণের ওপর নির্যাতন, রক্তপাত কিংবা মানুষের ভোগান্তি—কোনো কিছুই তাকে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা থেকে বিরত করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতের সুযোগ ছিল না

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ভিন্নমতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ রাজনৈতিক চাপ ও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষকরা নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আসিফ নজরুলের চেম্বারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন রিজভী। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে যাতে নতুন কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু একটি সরকারের পতনই যথেষ্ট নয়; দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ভিন্ন কোনো পথ ধরে আবারও কর্তৃত্ববাদ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে।

অর্থনীতি ও শিক্ষা খাত নিয়েও সমালোচনা

রিজভীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষার মান ও মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষার খাতা ও ফলাফল নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিমভাবে ভালো ফল করানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।