tanaka

বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানিদের ইতিবাচক মনোভাব বেশি, ভারতে তুলনামূলক কম: পিউ জরিপ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে একে অপরকে নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য উঠে এসেছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে। এতে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকশেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার অনুরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রতিবেদনটিতে ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে। বাংলাদেশের করা অভিযোগগুলো ভারতের আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না, আদালতের প্রক্রিয়ায় সেটিও যাচাই করা হবে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতীয় আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই সময় দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রত্যর্পণ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ভারতের এক কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে।

২০১৩ সালের চুক্তিতে কী বলা আছে?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতের মাধ্যমে ঘোষিত সাজা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধকে প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ বেশ কিছু গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে।

ভারতের আদালতে কীভাবে চলতে পারে প্রক্রিয়া?

প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের ১৯৬২ সালের Extradition Act-এর বিধানও গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মনে হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একজন তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হস্তান্তরের সুপারিশ করা যেতে পারে। বিপরীতে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না মিললে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ থাকলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে না; ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।